Last Update: 2013-09-19 02:02:08 pm

একজন ঐশী,মাদকাসক্তি এবং আমাদের বাস্তবতা

2013-08-27 07:26:39 pm

সাম্প্রতিক ঐশী নাম্মী এক পুলিশ তনয়ার পিতা-মাতা হত্যা সবার হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। যদিও প্রতিক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন। আলোচনায় উঠে এসেছে মাদকাসক্তি, সন্তান লালন পালন, ঘুষ - দুর্নীতি সহ নানা বিষয়।
মাদকাসক্তি এবং এর ফলাফল বাক্তি জীবন, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে এর প্রভাব নিয়ে আগামি ২৪ এর সরেজমিন রিপোর্ট।
বাংলাদেশে মোট মাদকাসক্ত কত জন ? বিভিন্ন পত্রিকা ও সরকারী বেসরকারী সূত্রানুসারে ৬৫ লক্ষ থেকে ১ কোটি মাদকাসক্ত রয়েছে সারা দেশে। গড়ে প্রতিবছর ৩০ থেকে ৪০ কে জি হেরোইন ধরা পরে বিমান বন্দরে। তার পর ও থেমে নেই এই ব্যবসা।
একজন মাদকাসক্ত প্রতিদিন ই সেবন করে কিছু নির্দিষ্ট পরিমান মাদক  যা দিনে দিনে বাড়তে থাকে।যার অর্থ এই দাড়ালো যে প্রতিদিন তৈরী হচ্ছে চাহিদা, প্রতিদিন প্রয়োজন যোগান। অনুসন্ধানে জানা যায় কয়েক কোটি টাকার প্রতিদিনের বাজার শুধু ঢাকা। প্রতিদিন এই কোটি টাকার বানিজ্য চলছে আমাদের চোখের সামনে ই । লাভের লোভে বেপরোয়া মাদক ব্যবসায়ীরা আর ঘুষের টাকায় নিরব প্রশাসন।মান সম্মান বা জীবনের ভয়ে নিশ্চুপ সাধারণ মানুষ।
সহজলব্ভো মাদকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হেরোইন, ফেনসিডিল, টিদিজেসিক ইনজেকশন, পাথিদ্রিন ইনজেকশন, গাজা, চরস, ভাং, ইয়াবা, ভায়াগ্রা, বিভিন্ন ধরনের ঘুমের ওষুধ, গাম জাতীয় আঠা ইত্যাদি। প্রায় সব মাদকের ই শারীরিক প্রভাব নির্ভরশীলতা অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমান মাদক সেবন না করলে আসক্ত বাক্তি শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়। যেমন : মাথা ব্যাথা, অনিদ্রা, ডায়রিয়া, মাংসপেশীতে খিচুনি ইত্যাদি। এই সব শারীরিক সমস্যা তিন দিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। আসক্ত বাক্তি প্রায় ই শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য বার বার মাদক সেবন করে আর এভাবে সেবনের পরিমান দিনে দিনে বাড়তে থাকে। অদৃস্শ এক মৃত্যুফাদ যেখানে টাকা -নেশা এবং নেশা-টাকা এই দুই এর বাইরে অন্য কিছু ভাবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে আসক্ত বাক্তি।
মাদকাসক্তি সংশিষ্ট ডাক্তারদের মতে শারীরিক প্রতিক্রিয়ার চেয়ে ভয়াবহ মাদকের মানসিক নির্ভরশীলতা। এই নির্ভরশীলতা তীব্র আকারে থাকে ৪০ থেকে দুই বছর পর্যন্ত এমনকি কারো কারো সারাজীবন ই মানসিক নির্ভরশীলতার লক্ষণ থাকতে পারে। মাদক মানব মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক এক প্রকার হরমনের নিঃসরণ ঘটায় যা মানুষ কে ভালো লাগার অনুভূতি দেয়। এই ভালো লাগা অনুভূতি বার বার পাবার জন্য একজন আসক্ত বাক্তি বার বার মাদক সেবন করে। কিন্তু একই অনুভূতি পাবার জন্য একজন আসক্ত বাক্তিকে পূর্বের চেয়ে বেশী পরিমাণ মাদক সেবণ করতে হয় কারণ দেহে ওই পরিমাণ মাদকের সহনশীলতা তৈরী হয়।
মূল সমস্যা হলো মাদক সেবণ বন্ধ করার পর মস্তিস্ক ডোপামিনের সাধারণ নিঃসরণ বন্ধ করে দেয় কারণ ইতিপূর্বে সে মাদকের উপর নির্ভরশীল ছিল যা এখন অনুপস্থিত। প্রাকিতিক নিয়মে মানুষ প্রেমে পড়লে, সুন্দর গান বা অন্য আরো অনেক কিছুতে ডোপামিনের নিঃসরণ হয় কিন্তু আসক্ত বাক্তি এক নিরানন্দ কঠিন পৃথিবীর সম্মুক্ষীন হয় যা তাকে আবার মাদকের দিকে ধাবিত করে। মস্তিস্কের এ অবস্থাতে একজন আসক্ত বাক্তি ভালো মন্দের বিচার বিস্শেষণ করতে অপারগ, তার অতীত স্মৃতি বা ভবিষ্যত জীবনের লক্ষ্য উদ্দেস্য নির্ধারণে অক্ষমতা তাকে ভুল সিদ্ধান্তের দিকে ধাবিত করে। এ পরিস্থিতিতে একজন আসক্ত বাক্তির পক্ষ্যে যে কোনো অন্যায় অনিয়ম করা সম্ভব, সে যত সুস্থ্য হতে থাকে তত ই অনুশোচনা তাকে বিধ্বস্ত করে।
মাদকাসক্ত বাক্তির নিসঙ্গতা, দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকান্ডে অনুপস্থিতি এবং আমাদের অজ্ঞতা তাকে সামাজিক পুনর্বাসনে বাধাগ্রস্থ করে। আমরা অনেকেই মানতে চাই না মাদকাসক্তি একটি মনোদৌহিক রোগ একজন আসক্ত বাক্তি পাগল কিংবা খারাপ নয় সে অসুস্থ্য।
ফিরে আসি ঐশী প্রসঙ্গে, যখন তার দরকার ছিল ট্রিটমেন্ট তাকে বন্দী করে অবিভাবকগণ ভাবলেন মেয়ে এবার ভালো হয়ে যাবে। অজ্ঞতা হোক বা লোকলজ্জার ভয় পরিণতি ভয়াবহ। আমাদের চারপাশে এমন অনেক ঐশী ভয়ংকর জীবনযাপন করছে নিজের ও চারপাশের মানুষের জন্য এসব মোটে ও সুখকর নয়। এদের ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন। ঢাকার স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির অনেকেই ইয়াবা নামক মাদকে আসক্ত। ট্যাবলেট আকারে বিক্রী হচ্ছে এই মাদক যা সহজে পরিবহণ করা যায়, বিশেষ কোনো মাতলামো দেখা যায় না তাই ধরা পরার ভয় কম হওয়াতে উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা দ্রুত ই এর শিকার হয়ে যাচ্ছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্হার সক্রিয় ভুমিকার  পাশাপাশি, গণসচেতনতা এই জাতীয় বিপদ থেকে আমাদের উদ্ধার করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে আইন প্রনয়ন বা প্রয়োগ মাদক বিস্তারে যতটা কার্যকর হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশী কার্যকর হয়েছে গণসচেতনতা। মাদক বিস্তার বন্ধে প্রথমে আমাদের ধ্বংস করতে হবে প্রতিদিনের এই কোটি টাকার বাজার। চাহিদা কমানোর মাধ্যমে। আমাদের চারপাশের ঐশীদের ট্রিটমেন্ট ও পুনর্বাসন পাশাপাশি সকলকে মাদক সম্পর্কে সচেতন করার মাধ্যমে নতুন ক্রেতা বন্ধ ও পুরোনো ক্রেতা কমানোর মাধ্যমে আমরা ছোটো করে ফেলতে পারি মাদকের বাজার। আর এই পথে জাতীয় এই বিপদ থেকে মুক্তি আসবে বলে চিন্তাশীল সমাজ একমত।

এই সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন পাঠকের মন্তব্য (0)    মোট দর্শন(2878)

You can switch to English and Bangla anytime by pressing Ctrl+y in windows and linux (Command+y in mac)



Can't read the image? click here to refresh

X
(4:50 AM) raj: sdf
(4:50 AM) raj: o k
(5:50 AM) raasdsdf: sddsfsdff
(5:50 AM) raasdsdf: df fsdf sdf
(5:50 AM) raasdsdf: df sdfsdf
(5:50 AM) raasdsdf: sdfsdf
(5:50 AM) raasdsdf: sdf sdf
(5:50 AM) raasdsdf: sdfa sdf sdfsf
(5:51 AM) raasdsdf: dsf sdfsdf sdf
(5:51 AM) raasdsdf: sdfas sdf sfsdf
(5:51 AM) raasdsdf: sdf sdfasdfasdf
(5:51 AM) raasdsdf: sd asfasdf
(5:51 AM) raasdsdf: sdf sfasdfsadfsdf
(5:51 AM) raasdsdf: sdf asdfsdf
(3:14 AM) raj: .
(9:37 AM) :
(5:49 AM) irfan: best Bangladeshi news paper
(8:49 AM) :
(11:25 AM) arnob: Nice web portal with huge features anybody here
(6:21 AM) :
(8:25 AM) rabin: hi
(2:12 PM) আমাদের বানারীপাড়া: আমাদের বানারীপাড়া
(1:32 PM) :
(9:25 PM) পরি: আমার বিয়ে হয়েছে এই চার মাস চলছে। আমার স্বামী আমাকে রেপ করে বিয়ে করেছেন।আমার স্বামী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ তে পড়ছে। আমার বাবা মা দুজনই মৃত।এজন্য তার পরিবার থেকে মেনে নিবে না।ছেলে এখন অন্য মেয়ের সাথে রিলেশনে ব্যস্ত। আমার সাথে যৌতুক চেয়ে তালাকের হুমকি দিয়েছিল। ২ সপ্তাহ আগে জানতে পারলাম সে নাকি তালাক দিয়েছে কোন উকিলের কাছে যেয়ে দিয়েছে।কিন্তু আমার কাছে এখনো কোনো কাগজ বা নোটিস আসেনি। এই অবস্হায় আমি তাকে কিভাবে কঠোর শাস্তি প্রদান করিতে পারি। :-(
(9:30 PM) পরি: উল্লেখ্য তার সাথে ২ সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ সম্পূর্ন বন্ধ। শেষ কথার দিন আমাকে হুমকি দিয়েছিল, আমি তাকে ফোন করলে আমার নামে হ্যারাজমেন্ট মামলা করবে। আমার কাছে বিয়ের লিগাল কাবিন আছে
(2:54 AM) :
(1:27 AM) :